কলেজের ফি দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হয়ে তাক লাগাল পরিযায়ী শ্রমিকের মেয়ে

লেখাপড়ার তীব্র প্যাশন যে কোনো বাধাই মানে না তা আরেকবার প্রমাণ করলেন এক শ্রমিকের মেয়ে। তীব্র আর্থিক অনটনে জর্জরিত তার পরিবারের সাধ্য ছিল না কলেজের ফি মেটানোর। সেই মেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে হল প্রথম স্থানাধিকারিনী।

পায়েল কুমারী নামের এই ছাত্রী বর্তমানে কেরালার বাসিন্দা হলেও তারা আদতে বিহারের মানুষ। বহু বছর আগে রুটি রুজির টানে বিহার ছেড়েছিলেন পায়েলের বাবা। কেরালায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করলেও মেয়ের পড়াশোনা চালানোর সামর্থ্য তার ছিল না। এই মেয়েই কেরালার মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্থান অধিকারিনী। ভবিষ্যতে সিভিল সার্ভিসে চাকরি করে দেশসেবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে সে।

পায়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে
শীর্ষ নাম্বার পেয়েছে। পায়েলের বাবা প্রায় দুই দশক আগে বিহার থেকে কেরালায় থাকতে শুরু করেন। শ্রমজীবী ​​পরিবারের পক্ষে কলেজের বার্ষিক তিন হাজার টাকা ফি পূরণ করাও ছিলব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষক ও অন্যদের সহায়তায় এই বাধাও পায়েলের জীবনে কোনো ব্যাঘাত ঘটাতে পারে নি। কোচির কাছে পেরুমবাবুড়ের ম্যারাথোমা মহিলা কলেজের ছাত্র পায়েল এ বছর 85 শতাংশ নম্বর পেয়েছে প্রত্নতত্ত্বে।

পায়েল কুমারীর বাবা প্রমোদ কুমার আদতে বিহারের সেকুপুরা জেলার বাসিন্দা। প্রমোদ ১৯ বছর আগে পরিবারের সাথে কেরালায় রুটি রুজির টানে চলে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ী ভাবে থাকতে শুরু করেন। প্রমোদের পায়েল সহ তিনটি সন্তান রয়েছে। পায়েল তার ইতিহাসের শিক্ষকের প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে তিনি তার প্রথম বছরের ফি জমা দিয়েছেন। পায়েলের কথায়, আমি ভালো পরীক্ষা দিয়েছিলাম তবে আমি র‌্যাঙ্ক পাওয়ার আশা করিনি। আমার বাবা-মা সবসময় আমাকে উত্সাহিত করেছেন।