কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আতঙ্কবাদী বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বললেন আতঙ্কের সৃষ্টি করছে কেন্দ্রীয়বাহিনী।

লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এবারের লোকসভা ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে ও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষনা করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের কোনো নিয়মবিধি নেই বিরোধীদের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে রাজ্যে নির্বাচনে কোনো সমস্যা যাতে না হয় তা দেখতে বদ্ধ পরিকর ছিল নির্বাচন কমিশন। সেই মতো রাজ্যের বেশ কয়েকটি লোকসভা কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর ও বিশেষ স্পর্শকাতর বলে ঘোষনা করেছিল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্যে ভোট শুরুর সাতাশ দিন আগে দশ কোম্পানির কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী এসে পৌঁছেছে রাজ্যে। বেশ কয়েকদিন ধরেই বীরভূম ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন সীমানায় রুটমার্চ শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয় যে সমস্ত কেন্দ্রে যেদিন ভোট থাকবে সেই সমস্ত এলাকার অলিতে গলিতে ঢুকে রুটমার্চ চালাবে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী।

রবিবার থেকেই কলকাতায় শুরু হয়েছে রুটমার্চ। আর এ নিয়েই কার্যত ক্ষেপে গেলেন শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রবিবার নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত দলীয় কর্মীসভায় শিক্ষামন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে আতঙ্ক তৈরি করার অভিযোগ এনেছেন। সভা মঞ্চ থেকে সামরিক বাহিনীর সেই অধিকার নেই বলেও দাবি করেন। ভোট নির্বিঘ্নে করতে এবং ভোটারদের ভোট দিতে যাতে কোউ বাধা দিতে না পারে সেজন্য প্রতিনিয়তই আধা সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে কড়া নজর রাখা হবে। সেই বিষয়টি ভালো চোখে দেখছে না বিরোধীরা। লোকসভা ভোটে শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ও শিক্ষামন্ত্রীর মতো একই অভিযোগ এনেছেন। কেন্দ্রীয় আধা সামরিকদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ এনেছেন তিনি। বিষয়টিকে অসাংবিধানিক বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, ভোট নিয়ে দাদাগিরি চলবে না এবং এধরনের কথা কেউ বলতে পারে না বলেও অভিযোগ এনেছেন।

এমনকি আধা সামরিক বাহিনীদের হুমকির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, রবিবার কলকাতার রিজেন্টপার্ক এলাকা থেকে আধা সামরিক বাহিনীরা রুটমার্চ শুরু করেন। রিজেন্টপার্ক হয়ে পাটুলি, নেতাজিনগর সহ বিভিন্ন এলাকায় টহলদারি চালান তাঁরা। বিভিন্ন এলাকার গলিতে ঢুকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভোট সংক্রান্ত বিষয়ে কথাও বলেন তাঁরা। শুধুমাত্র শহর কলকাতাতেই নয় রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও রুটমার্চ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীরা। ভোটের সময় আবারও রুটমার্চ চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে ভোটের সময় আরও দশ কোম্পানির আধাসামরিক বাহিনী রাজ্যে আসার কথা রয়েছে। তাই এবারের ভোট যে আরও কড়া নিরাপত্তার সঙ্গে হবে তা বোঝাই যাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা সবথেকে টাইট করা হবে বলে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে।

এর কারণ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে প্রবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। বিরোধীরা নিজেদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে গিয়ে বারেবারে বাঁধার মুখে পড়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গুড়াবাহিনীর কাছে। এমনকি রাজ্যের সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকারের ভোট পর্যন্ত নিজেরা দিতে পারেনি। পঞ্চায়েতে ভোটে বেশ কয়েকজনের প্রাণ অব্দি গিয়েছিল।

Related Articles