fbpx
দেশনতুন খবররাজনৈতিক

মমতাকে আগাগোঁড়া আক্রমণ রাহুলের, বললেন বাংলায় এখন একনায়কতন্ত্র চলছে। এই সরকারের পরিবর্তন চাই।

লোকসভা ভোট ঘিরে রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপি সংঘাত ক্রমশই প্রকাশ্যে। আর ভোট যতই এগিয়ে আসছে ততই সেই সংঘাত আরও বাড়ছে। যদিও এ সংঘাত শাসক দল আর বিরোধী দলের আসন জেতার লড়াই। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করে এবারের ভোটে বঙ্গে 42 টি আসনে প্রার্থী ঘোষনা করে দিয়েছে মমতার সরকার। সেই মতো প্রচার চালানোও প্রায় শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে মাত্র দুদিন আগেই বিজেপি প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করে দিয়েছে। এই অবধি ঠিক ছিল। কিন্তু এবার রাজ্যে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলের বিরোধিতা করতে উঠেপড়ে লেগেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষনার পরেই প্রচার শুরু করেছে। এতদিন তৃণমূলের বিরোধিতা করার জন্য বামেরা সক্রিয় ছিল। কিন্তু এবার বামেদের মধ্যে সেই সক্রিয়তা না দেখা গেলেও গেরুয়া শিবির ও কংগ্রেস কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল ছাড়া করতে একেবারে প্রস্তুত।

কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীকে চৌকিদার চোর বলে সম্বোধন করার পর এবার রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি বিঁধলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। উত্তর মালদার প্রার্থী ঈশা খান চৌধুরির সমর্থনে মালদায় জনসভায় যোগ দিতে এসে চাঁচল থেকে রাজ্যে একনায়কতন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেন। একযোগে চাঁচলের সভা থেকে মোদীকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। শনিবারের সভায় তিনি নাম না করেই বাংলায় একজনই একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দাগেন তিনি। রাজ্যে নাকি স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোটাই অচল হয়ে পড়েছে, এমনটাও বলতে ছাড়েন নি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের জন্য কি করেছেন এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে এদিনের মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধী কৃশকদের দিকে কোনো নজরই দেননি তিনি এবং বাংলায় ঋণ মুকুব করেন নি তিনি, একথাও বলেন তিনি। সুর বদলে কৃষকদের সুবিধার জন্য কংগ্রেসকে রাজ্যে বাংলায় আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সরকার বাংলায় আসলে আম প্রক্রিয়াকরনের কারখানা খোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

একইসঙ্গে সেই কারখানায় সমস্ত কৃষকদের আম বিক্রির সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি। রাজ্যে আমূল পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে এদিন রাহুল জানান বাংলায় কংগ্রেসের হাত ধরে বদল আসবে এবং বাংলায় এখন একক ব্যক্তির রাজত্ব চলে বলেও দাবি জানান। তাই কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে রাজ্যের হাল হকিতক বদলে দেবে বলেও জানান। তবে রাহুল গান্ধী যতই চেষ্টা করুক না কেন সেই চেষ্টা মূল্যহীন বলেই মনে করছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি রাহুল গান্ধীকে রাজ্যে সাদরে সম্ভাষণও জানিয়েছেন। তবে একের পর এক বিরোধী দলের দৌরাত্ম্য একটু হলেও চিন্তায় ফেলেছে মমতার সরকারকে। আর ভোটের আগে যেভাবে রাজ্যের মন্ত্রী আমলারা দলছাড়া হয়েছেন তাতে তারকা প্রার্থীকেই হাতিয়ার করেছেন। কিন্তু এখনও অবধি বিজেপি মাত্র আটাশটি আসনে প্রার্থী দিয়েছেন। এরপর কতগুলো আসনে প্রার্থী দিতে পারবে তাও দেখার বিষয়।

রাহুল গান্ধীর এই দিনের সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কে এই ধরনের আক্রমণ প্রসঙ্গ টেনে বাংলার বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে রাহুল গান্ধীর এমন মনোভাব যে মহাজোটবন্ধনে বেশ প্রভাব ফেলবে সেটা বলাই বাহুল্য। কারণ রাহুল গান্ধীর কোনভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে কোন প্রকার আসন ছেড়ে দেবেন না সেটা তার বক্তৃতার মধ্যেই স্পষ্ট। সেই সঙ্গে রাহুল গান্ধী শুধুমাত্র নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত ভালভাবেই বুঝে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি।

Open

Close