নড়ে গেল আলিমুদ্দিনের ভীত! বিমান বসু ও সুজন চক্রবর্তী সারদার টাকা মেরেছেন বলে জানালেন সুদীপ্ত সেন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) জেলে বসে বিস্ফোরক চিঠি লিখলেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন (Sudipta Sen)। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সুদীপ্ত সেনের লেখা ওই চিঠিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছয়জন প্রভাবশালী নেতার নাম লিখেছেন তিনি। ওই ছয়জন প্রভাবশালী নেতা যে ওনার থেকে টাকা নিয়েছেন, সেটাও জানিয়েছেন তিনি।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সুদীপ্ত সেনের ওই চিঠিতে নাম উঠেছে এই মুহূর্তে বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু শুভেন্দু অধিকারী, বাংলার বিজেপি নেতা মুকুল রায়, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। মিডিয়া রিপোর্টস অনুযায়ী, সুদীপ্ত সেন ওনার বিস্ফোরক চিঠিতে জানিয়েছেন যে, এরা ওনার থেকে কোটি কোটি টাকা খেয়েছেন।

মিডিয়া রিপোর্টস অনুযায়ী, সুদীপ্ত সেনের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে যে, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু ওনার থেকে ২ কোটি টাকা নিয়েছেন। এছাড়া বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী ওনার থেকে ৯ কোটি টাকা নিয়েছেন। মুকুল রায় কত নিয়েছেন উনি ঠিক বলতে না পারলেও, শুভেন্দু অধিকারী ওনার থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়েছেন সেটা সেই বিস্ফোরক চিঠিতে জানান তিনি।

কিছুদিন আগে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এর হাতে একটি অডিও ক্লিপ এসেছিল। ওই অডিও ক্লিপে বেশ কয়েকজনার কণ্ঠস্বর আছে বলে সুত্রের খবর। সিবিআই এর হাতে সেই অডিও ক্লিপ আসার পর সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের বিস্ফোরক চিঠি এই মামলায় অনেক তথ্য ফাঁস করবে বলে আশাবাদী সবাই। তবে রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে সারদা নিয়ে বড়সড় কিছু ঘটার আশঙ্কাও প্রবল।

জানিয়ে রাখি, গত সাত বছর ধরে সারদা মামলায় জেল খাটছেন সংস্থার কর্তা সুদীপ্ত সেন। আর সাত বছর পর তিনি জেলে বসেই প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন। সুদীপ্ত সেনের লেখা ওই চিঠিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছয়জন প্রভাবশালী নেতার নাম আছে বলে সুত্রের খবর। সারদা কর্তা চিঠিতে অভিযোগ করে বলেছেন যে, ওই নেতারা ওনার থেকে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন। সুদীপ্ত সেনের লেখা চিঠি PMO এবং মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ।

এর আগে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাকে সারদা মামলায় জেল খাটতে হয়েছিল। এছাড়াও কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে নিয়েও সারদা মামলায় অনেক জলঘোলা হয়েছিল। এমনকি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজীব কুমারের সমর্থনে ধরনায় বসেছিলেন। তবে এবারের বিস্ফোরক চিঠিতে শাসক দলের নেতাদের নাম থাকায় তৃণমূল ভবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি।

Related Articles