fbpx
নতুন খবরপশ্চিমবঙ্গরাজনৈতিক

যাদবপুরে বিজেপি প্রার্থী শোভন চট্টোপাধ্যায়, অপরদিকে ডায়মন্ড হারবারে বৈশাখী দেবী। এমনই ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা।

রাজ্যে শোভন-বৈশাখী বিতর্কে এখন ভাটা পড়েছে। তবে মাস খানেক আগে বৈশাখী ও শোভনের সম্পর্ক নিয়ে যেভাবে তৃণমূলের দলীয় অন্দরে টানাপোড়েন চলছিল তা এখন আর নেই। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর শোভন ও বৈশাখীকে নিয়ে সেভাবে আর কিছুই প্রকাশ্যে আসে না। কিন্তু দল বদলের পর শোভন ও বৈশাখী বিতর্ক আরও জোড়ালো হয়েছে। কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল মার্চের ১০ তারিখের মধ্যেই শোভন ও বৈশাখী নতুন খবর দিতে চলেছেন। সকলেই ভেবে ছিলেন দুজনের বন্ধুত্ব সম্পর্ক কি এবার তাহলে অন্য নাম পাবে। কিন্তু না বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুধু নয় দলের প্রার্থী হওয়ার সংবাদ সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিলেন দুজনেই। বেশ কয়েকদিন আগে বৈশাখীর সঙ্গে গোপনে বিজেপির এক নেতৃত্ব যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর শোনা গিয়েছিল। তবে সত্যিই কি দুজনে বিজেপিতে যাচ্ছেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বৈশাখী ও শোভনের জন্য বিজেপির দরজা খোলা আছে, যেদিন ওঁনারা সিদ্ধান্ত নেবেন সেদিনই বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁদের গ্রহণ করা হবে বলে জানান। তবে শোভন-বৈশাখীর প্রার্থী নিয়ে বিজেপি সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবার ও যাদবপুরের জন্য দই প্রাক্তন হেভিওয়েটকে প্রার্থী হিসেবে বাছা হতে পারে। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন আগে দলে আসুক তারপর প্রার্থী হবে কি না হবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান। তবে শোভনকে প্রার্থী করা নিয়ে কোনো বিতর্ক না হলেও বৈশাখীকে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপি শিবিরের একাংশ আপত্তি তুলেছে। যে বৈশাখী রত্নাদেবীর সংসার ভাঙার কারণ সেই বৈশাখীকে প্রার্থী করা হলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

তাই বৈশাখীর জায়গায় অন্য কাইকে জায়গা দিতে হবে বলেই মনে করেন অনেকে। তবে দলে আসার পরই সমস্ত জল্পনার অবসান হবে। প্রসঙ্গত, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রীর আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে মন্ত্রীত্ব পদ ও মেয়র পদে থেকেও সমস্যায় পড়েন শোভন। বৈশাখীর সঙ্গে শোভন বাবুর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে রত্নাদেবীর এমন অভিযোগ আসার পরই দুই বন্ধুর সম্পর্কে পড়ে যায় অন্য তকমা। আর তখন থেকেই শুরু হয় পদ ও সম্পর্ক নিয়ে টানা টানি। ইতিমধ্যে রত্না-শোভন মামলা আদালত অবধি গড়িয়েছে। মন্ত্রীত্ব সভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর মেয়র পদ থেকে সরে আসেন শোভন। আর এরপর তৃণমূল কংগ্রেস পাশে দাঁড়ায় রত্না দেবীর। এখন কার্যত মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ হয়েছেন রত্না। তবে শোভনের প্রার্থী হওয়ার খবরে রত্নাকে নিয়ে তৃণমূল কোনো কথা ভাবছে কি না তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তবে এখন দেখার বিষয় কবে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী দেবী কবে বিজেপিতে যোগদান করেন। সমস্ত রাজ্যবাসীর নজর এখন সেদিকেই আর ওনারা যোগদান করার পরে উনাদের কি আদেও যাদবপুর এবং ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী করা হবে সেই ব্যাপারে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। তাই এখন লোকসভা নির্বাচনের আগে সবথেকে বেশি নজর বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে।

Open

Close