মমতার শাসনে বেড়েই চলেছে ক্ষোভ! পুলিশের পর এবার দমকল কর্মীরা নামলেন রাস্তায়

চাকরির কোনও নিরাপত্তা নেই, দেওয়া হয় না কোনও ভাতা, তার ওপর কেটে নেওয়া হচ্ছে বেতন। এমনই অভিযোগ তুলে এবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাল দমকল বিভাগের প্রায় ১০০ জন অস্থায়ী কর্মী।

শনিবার কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হয় দমকল বিভাগের এক অস্থায়ী কর্মীর। এই মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পরেই রবিবার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন দমকল বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা। এদিন অস্থায়ী কর্মীদের একাংশ দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ থানার অন্তর্গত দেশপ্রাণ শাসমল রোড অবরোধ করেন এবং বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, আমরা দিন-রাত কাজ করে চলেছি। আমাদের কাজের নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। আমাদের কোনও ভাতা দেওয়া হয়নি। তার ওপর বেতন কেটে নেওয়া হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে না নূন্যতম সম্মান টুকুও। এমনকি এই করোনা পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বার বার বলা স্বত্ত্বেও দেওয়া হচ্ছে না কোনও বর্মবস্ত্র (পিপিই)।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার, যখন কাজ করতে গিয়ে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয় ২২ বছরের দেবনারায়ণ পালের। এদিন টালিগঞ্জ দমকল স্টেশনের কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফলে তাঁর ওপর একটি পোল পড়ে যায়। এর ফলে মৃত্যু হয় ওই কর্মীর। এই ঘটনায় স্টেশন মাস্টার কৃষ্ণেন্দু কুণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এইভাবে বারবার পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিচুতলার কর্মীদের বিক্ষোভ আন্দোলন প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে সরকারকে। এর আগে কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে পুলিশ কর্মীদের বিক্ষোভ। তারপর গরফা থানা ও সল্টলেকের চতুর্থ ব্যাটালিয়নে পুলিশ কর্মীদের বিক্ষোভের ঘটনা এবং দমকল কর্মীদের বিক্ষোভ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে নিচুতলার কর্মীদের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। এ দিকে সল্টলেকের ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।