ভারত সরকারের নতুন যোজনা, মেয়েদের ২১ বছর হলেই পাবে ২১ লক্ষ টাকা। দেখে নিন কি কি করতে হবে এই টাকা পাওয়ার জন্য।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মসনদে বসার পর বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশেষ করে দেশের মহিলাদের জন্য একাধিক প্রকল্পের সূচনা করেছেন মোদি। বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও সহ বিভিন্ন লাভজনক কর্মসূচি দেশের মহিলাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে। এরই মধ্যে মোদি সরকার আরও একটি নতুন যোজনা চালু করেছে মহিলাদের জন্য। তা হল সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা। যার মাধ্যমে দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা এক নতুন সুযোগ পাবে। তবে তার জন্য মেয়ের বয়স হতে হবে একুশ বছর। মাসে অল্প কিছু সঞ্চয়ের মাধ্যমেই এই সুবর্ণ সুযোগ পাবে মেয়েরা। মেয়ে সন্তানদের পরিবারের বোঝা হতে যাতে না হয় তার জন্যই এই নতুন কর্মসূচি। মোদী সরকারের এই বিশেষ কর্মসূচির ফলে ভারতবর্ষের মেয়েরা পাবে এক অন্য মাত্রা।

মোদি সরকারের এই নতুন যোজনায় শতকরা ৮.৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো বাবা-মায়ের দত্তক নেওয়া সন্তানরাও বঞ্চিত হবেন না তারাও কিন্তু এই প্রকল্পের আওতায় পারবেন। সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার সুবিধা পেতে শিশুর বয়স তিন বছর হওয়ার পর থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে মাসিক তিন হাজার টাকা করে জমা দিতে হবে পরিবারকে। মেয়ের বয়স আঠেরো বছর হওয়া অবধি এই টাকা জমিয়ে যেতে হবে। এরপর একুশ বছর বয়স হলে সেই মেয়েটি একুশ লক্ষ টাকা পেতে পারবেন। অর্থাৎ মাত্র পনেরো বছর বয়স হওয়া অবধি ওই মেয়ের নামে টাকা জমাতে হবে। আর মাত্র পনেরো বছরেই লক্ষাধিক টাকা পাওয়ার সুযোগ পাবে। তবে যদি মেয়ের শিক্ষাখাতে বা অন্যান্য খাতে খরচের প্রয়োজন হয় তাহলে মেয়ের বয়স আঠের হলেই ওই জমানো টাকার অর্ধেকাংশ তুলে নিতে পারবেন। এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার সময় মেয়ের জন্ম সার্টিফিকেট আবশ্যিক।

তাহলে এবার হিসেব করে দেখা যাক ভারত সরকারের এই প্রকল্পের জন্য কি কি বাড়তি সুবিধা থাকছে। মাসে তিন হাজার টাকা করে জমালে বছরে সেই টাকার পরিমান হবে ছত্রিশ হাজার টাকা। পনেরো বছর টাকা জমালে সেই টাকার পরিমান হবে পাঁচ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা। কিন্তু জমানো টাকার প্রায় চারগুণ বেশি টাকা ফেরত দেবে সরকার। যদি কোনো পরিবার মেয়ের নামে তিন হাজার টাকা করে জমাতে না পারেন তাহলে মাত্র এক হাজার টাকা জমিয়েও সাত লক্ষ টাকা অবধি পাওয়ার সুবিধা পেতে পারেন।
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার সুবিধা পেতে হলে বেশ কয়েকটি শর্ত রয়েছে। তা হল- শিশুকন্যার বয়স তিন থেকে দশ-এর মধ্যে হলে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারবেন। মেয়ের বয়স একুশ হওয়ার পর সেই টাকা না তুললে যে সুদ দেওয়ার কথা ভারত সরকার সেই সুদ দেবে না।

এর ফলে দেশের লক্ষ্য লক্ষ্য মেয়ে যে এই সুবিধা পাবেন সেটা ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে। এই প্রকল্পের ফলে দেশের গরিব মেয়েদের খুবই উপকার হবে। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সকলে।