বিজেপির বড় চাল? তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দিয়ে পাহাড়ে হাত মেলালো গোর্খা এবং জিএনএলএফ।

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের 42-এ 42 দখলের চ্যালেঞ্জকে বিফল করতে প্রস্তুত রাজ্যের বিরোধী দলগুলো। এককালে বামেদের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিল মমতা সরকার। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় জয়ের পর রাজ্যেও আস্তানা গড়ে তুলেছে। আর গত দুবছরে বিজেপির রমরমা আরও বেড়েছ। বিশেষ করে যখন তৃণমূলের নেতা নেতৃত্ব বা মন্ত্রী আমলাদের দল বদলের পালা শুরু হল। তৃণমূলের একাধিক বিধায়কও ইতিমধ্যে চলে গিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। ফলে একভাগে হলেও কোনঠাসা তৃণমূল সরকার। এবার তৃণমূল সরকারকে আরও কোনঠাসা করতে দূরত্ব সরিয়ে এক হল গোর্খা জনমূর্তি মোর্চা ও গোর্খা ন্যাশানাল লিবারেশন ফ্রন্ট। সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে অসাংবিধানিক ও দমনমূলক বলে অভিহিত করে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাঁদের এক হওয়া বলে জানানো হয়েছে।

কিন্তু দুই বিরোধীর এক হওয়াতে বিজেপির হাত থাকতে পারে বলে মনে করছেন একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও গোর্খা ন্যাশানাল লিবারেশন ফ্রন্টের সম্পর্ক  যে কতটা তিক্ত সে বিষয়ে সকলেই অবগত আছেন। গত সোমবার দিন তাঁদের যৌথ প্রেস কনফারেন্স সকলকে অবাক করেছিল। আর সেই অবাকই সত্যি হল দুজনের হাত মেলানোর পর। তবে দুই দলের মধ্যে যৌগসূত্র বন্ধনের পিছনে বিজেপি যুক্ত থাকার গল্পকেও অস্বীকার করছেন না কেউই।  কিন্তু জিটিএ প্রধান বিমল গুরুং এর বিরুদ্ধে এসআই অমিতাভ মালিকের খুনের অভিযোগ সহ একাধিক বড়সড় অভিযোগ রয়েছে।  এখনও তাঁদের কোনো খোঁজ নেই।  কিন্তু মুখখ্যমন্ত্রীর অমর সিং রাইকে ভোটে দাঁড় করানোর পর পাহাড় থেকে গোর্খা বিদায় নিতে পারে এই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। ফলে গুরুং মুক্ত পাহাড় যাতে তৈরি না হয় তার জন্য একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আসলে বিমল গুরুং এর অন্তরালে এখন মোর্চাবাহিনীর ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছেন বিনয় তামাং ও অনীত থাপা। মমতা ঘনিষ্ঠ এই দুই নেতার হাত ধরে পাহাড় তৃণ সরকারের দিকে যেতেই পারে। আবার দার্জিলিং আসনে জিততে মরিয়া বিজেপি।  যেহেতু পাহাড়ে গুরুং বাহিনী ছাড়া প্রবেশ সম্ভব নয় তাই দুই মোর্চাকে এক করে এক ধাপ এগিয়ে যেতে চাইছে বিজেপি, এমনটাও মত পোষন করেছেন অনেকেই। তবে লোকসভা ভোটের আগে দুই মোর্চা বাহিনী একজোট হওয়া কতটা পরিকল্পনা মাফিক তা স্পষ্ট্য। ওই সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করে একাধিক কথা বলা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধী মানুষদের যেভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। এমনকি রাজ্যে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে এবং বিরোধীদের কন্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। এমনকি গোর্খাকে দুই ভাগে ভাগ করায় মমতা সরকারের অভিত্সন্ধিতসা লুকিয়ে আছে বলেও ওই সাংবাদিক বৈঠকে প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

তাই আসন্ন লোকসভা ভোটে দুই গোর্খা বাহিনীর এক হওয়া এবং বিজেপির পরিকল্পনা এক হয়ে রাজ্য সরকারকে পিছনে ফেলতে পারে কি না তা বলবে লোকসভা ভোটের ফল। তবে ফলাফল যাই বলুক না কেন, এইভাবে দুই গোর্খা দলের এক হওয়া এবং রাজ্যে বিজেপির প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাওয়া এই সকল যে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে বেশ চাপে রাখবে সেটাই বলাই বাহুল্য।

Related Articles