উত্তরপ্রদেশ, বাংলার পর এবার বিহারে মুখ থুবড়ে পড়ল মহাজোটবন্ধন। কংগ্রেসকে সরাসরি ‘না’ বলে দিল আরজেডি।

গত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে যতই ভালো ফল কংগ্রেসের দিকে যাক না, লোকসভা ভোটে কিন্তু তেমন আশা দেখা যাচ্ছে না কংগ্রেসের পক্ষে। বিজেপিকে কুপোকাত করতে যতই জোট বাঁধুক না কেন সেই জোট যে ধোপে টিকল না তা আবারও প্রমানিত। উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের পর এবার বিহারে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে গেল না আরজেডি। লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের কাছে আরও এক বিরাট ধাক্কা। এমনিতেই সোনিয়া গান্ধী রাহুলের ওপর ভরসা হারিয়ে উত্তরপ্রদেশের জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর মেয়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর ওপর। সেই প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর দলে নামা নিয়েও কম কীর্তি হয়নি। হটাৎ কংগ্রেসের চমক বিজেপিকে একটু হলেও চাপে রাখলেও এবার যে গেরুয়া শিবিরের সেই চাপ কমে গেলে তা বোঝা গেল। উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেসের জন্য রায়বেরিলি ও অমেঠিতে জোট বেঁধেছিল সপা ও বসপা। আর কংগ্রেসকে বাংলায় পাত্তা দেয়নি বামেরা।

এবার সেই অবস্থা হল বিহারে। বিহারে কংগ্রেসরকে আসন ছেড়ে দিতে নারাজ আরজেডি। তাই সেরাজ্যেও মহাজোটে আর স্থান পেল না কংগ্রেস। আর তাতেই মাথায় হাত পড়েছে রাহুল গান্ধীর। বিহারে এবার আরজেটির সঙ্গে জোট বাঁধতে চাইছে উপেন্দ্র কুশওয়া। বিহারে লোকসভা ভোটের জন্য মোট আসন 40 টি কিন্তু তার মধ্যে 11 টি আসনের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু রাজ্যের এমন অবস্থায় এতগুলো আসন হাতছাড়া করতে নারাজ আরজেডি। আটটি আসনে রাজী হলেও কংগ্রেস 11টি আসনের জেদ নিয়ে বসে আছে। ফলে আরজেডির নেতাদের কোপে পড়েছেন। উত্তরপ্রদেশের এবার জোট বেঁধেছে সপা-বসপা এবং আর এলডি। সেখানে কংগ্রেসকে দলে নিতে চাইছে না বুয়া ভাতিজা। আর কংগ্রেসের ছেড়ে রাখা সাতটি আসনে মায়াবতীর দলও যেতে চাইছে না। পাশাপাশি তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো জোটে নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় মায়াবতীর পাশে দাঁড়িয়েছে অখিলেশ যাদবও। কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধিতা করে বিভ্রান্ত ছড়ানোর প্রসঙ্গও টেনেছেন অখিলেশ যাদব।

অন্যদিকে বঙ্গেও বামাদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট বাঁধা নিয়ে গত লোকসভা ভোট থেকেই একটা গুঞ্জন চলছিল কিন্তু বামেদের সঙ্গে আলচনার পর কংগ্রেসের দাবি মানতে মারাজ বামেরাও। আসলে কংগ্রেসের চাওয়া পাওয়ার আশাটা একটু বেশিই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পশ্চিমবঙ্গে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ আসনটি নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের আশা ছিল। পরে তার সঙ্গে যোগ হয় বসিরহাট ও পুরুলিয়া। কিন্তু তাতে আমল দেয়নি বামেরা। শেষে কোনঠাসা হয়ে একাই লড়তে হয় কংগ্রেসকে। লোকসভা ভোটের আগে দিল্লিতে মহাজোটের সব শীর্ষ নেতারা বৈঠকও সেরেছিলেন। কিন্তু সেই মহাজোট বাস্তবে এক হচ্ছে না। আসলে আসন্ন লোকসভা ভোট ঘিরে সকলের মধ্যেই বাড়তি আশা আছে। কেউই নিজের জায়গা থেকে এক চুল নড়তে নারাজ সমস্ত দলগুলিই। কিন্তু ভোটের ফলাফলের সময় আবার যে জোট বাঁধবে না তাও নিশ্চিত নয়।

এখন এটাই দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস কতগুলি রাজ্য তাদের মহাজোট বন্ধন কে টিকিয়ে রাখতে পারে আর কতগুলি রাজ্য থেকে তারা বঞ্চিত হয়। আসলে এই মুহূর্তে কংগ্রেসের এমন অবস্থা হয়ে গিয়েছে যে তারা না পারছে কাউকে ছাড়তে না পারছি কারো সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করতে। অর্থাৎ ভারতবর্ষের রাজনীতিতে কংগ্রেসের দিন যে শেষ হয়ে এসেছে সেটাই বারেবারে প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে।

Related Articles