কার্গিলে কর্মরত জওয়ানকে মারধর করে জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলো তৃণমূলের বিরুদ্ধে

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ নিজেকে এবং নিজের দলকে সবসময় দেশপ্রেমী বলে পরিচয় দেওয়া মমতা ব্যানার্জীর দলের লোকের হাতে নিগৃহীত কার্গিলে কর্মরত এক জওয়ান। মমতা ব্যানার্জী এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে বারবার দেশের জওয়ানদের অপমান করার অভিযোগ উঠেই থাকে। নোটবন্দির সময় এরাজ্যে হঠাৎ করে সেনা বাহিনীর চেকিং এ মমতা ব্যানার্জী ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেনাকে তোলাবাজ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। আবার ২০১৯ এ লোকসভা ভোটের প্রচারে সেনাবাহিনীকে আরএসএস ক্যাডার বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি।

আরেকদিকে মমতা দলের নেতা আর নেত্রীরা লোকসভা ভোটের সময় সেনার জওয়ানদের মারার নিদান দিয়েছিলেন। নদীয়া জেলার তৃণমূলের এক নেত্রী সেনার জওয়ান দেখলেই ঝাঁটা পেটা করার নিদান দিয়েছিলেন। আবার মেদিনীপুরের তৃণমূল সভাপতি সেনা বাহিনীর হাত পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তখন সেই মুহূর্তে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দীপক অধিকারী মঞ্চে বসে বসে ওনার কথায় হাততালি দিয়েছিলেন। আবার, কোচবিহারের তৃণমূল সভাপতি সেনা বাহিনীকে মারধর করা হুমকি দিয়েছিলেন। আর তৃণমূলের সবথেকে প্রভাবশালী নেতা বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বারবার সেনাকে অপমান করে তাঁদের দাওয়াই এবং পাচন দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।

এবার কার্গিলে কর্মরত এক সেনা জওয়ানকে সালিশি সভায় ডেকে মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভূপতিনগর থানার অনলবেরিয়া গ্রামের কৃষ্ণগোপাল দাস বর্তমানে কার্গিলে পোস্টিংয়ে। তাঁর অভিযোগ, ছুটিতে বাড়িতে এলে ওই গ্রামের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি দেবাশিস পন্ডা এলাকায় কাগজ ছড়িয়ে অপপ্রচার অভিযোগ তুলে তাঁকে বাড়ি থেকে টানতে টানতে গ্রামের মন্দিরের কাছে সালিশি সভায় ব্যাপক মারধর করেন। তাঁর নিজের রায়তি জমির ২৩ ডেসিমাল লিখিয়ে নেওয়া হয়। এবং থানায় যাতে অভিযোগ জানাতে না পারে তার জন্য ওই জোয়ান কৃষ্ণগোপালের বাড়ির সামনে তৃণমূল নেতারা পাহারাও বসিয়ে দেয়। ওই জওয়ান তখন ভয়ে থানায় অভিযোগ না জানিয়ে কার্গিলে চলে যান।

পুলওয়ামা কাণ্ডের জন্য কৃষ্ণগোপাল এতদিন ছুটি না পেয়ে এখন ফিরে এসে ভূপতিনগর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার, জেলাশাসক, মুখ্যমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও দিদিকে বলোতেও ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন। তারপর থেকে আরও অত্যাচার বেড়ে চলেছে। ওই তৃণমূল নেতা দেবাশিশ পান্ডা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কণিষ্ক পান্ডা জানিয়েছেন, খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত কাউকে দল সমর্থন করবে না। আইন আইনের পথে চলবে।

Related Articles