শুধু শুভেন্দুই নন, তৃণমূলের এক সাংসদের ডানা ছাঁটছে কালীঘাট! বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা দলে

শুধুমাত্র শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) নয়, অধিকারি পরিবারের ওপরেই নেমে আসছে কালীঘাটের খাঁড়া। তাই দাদার পর ভাইকেও সরিয়ে দেওয়া হল ইউনিয়নের সভাপতি পদ থেকে। আইএনটিটিইউসি (INTTUC) পরিচালিত ‘হলদিয়া রিফাইনারি টাউনশিপ মেইনটেনেন্স ওয়ার্কার্স ইউনিয়নে’র সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তমলুকের তৃণমূল (All India Trinamool Congress) সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকে।

গত ১৯ অগস্ট আইওসি’র টাউনশিপের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ, সেখানেই সংখ্যা গরিষ্ঠ কর্মীদের সিদ্ধান্ত মতোই শুভেন্দু অধিকারীর সাংসদ ভাইকে সরিয়ে কার্যকরী সভাপতি তথা হলদিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান দেবপ্রসাদ মণ্ডলকে সভাপতি করা হয়েছে। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে দলের। তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক থেকে শুরু করে রাজ্য মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট বৈঠকে গরহাজির থাকছেন পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে শুভেন্দু অধিকারীকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল শুভেন্দুকে। গত মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। তৃণমূল ভবনে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই এই ৪১ জনের কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কমিটিতে চিফ মেন্টর পদে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে আরও তিনজন আহ্বায়ক ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে একক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিব্যেন্দু রায়কে।

নন্দীগ্রামের বিধায়ককে দলের সরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ছেঁটে ফেলে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে। এবার কোপ পড়ল তাঁর ভাইয়ের ওপর। গত দু’বছর ‘হলদিয়া রিফাইনারি টাউনশিপ মেইনটেনেন্স ওয়ার্কার্স ইউনিয়নে’র সভাপতি ছিলেন দিব্যেন্দু। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৩৫০। সর্বসম্মতিক্রমেই দু’বছর আগে সভাপতি হন তমলুকের সাংসদ। কিন্তু, এখন বলা হচ্ছে, কাঁথি থেকে এসে হলদিয়ায় ইউনিয়নকে সময় দিতে না পারার কারণেই সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে।

তবে তৃণমূলের শ্রমিক ইউনিয়ন আইএনটিটিইউসি যে দিব্যেন্দুর অপসারণের ক্ষেত্রে কালীঘাটের অদৃশ্য হাত কাজ করেছে, তা পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট। কারণ, হলদিয়ার রাজনীতিতে একচেটিয়া আধিপত্য শুভেন্দুর। সেখানে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস এতদিন কেউ দেখায়নি। তাই মনে করা হচ্ছে কালীঘাটের প্রত্যক্ষ মদতেই সরানো হল তমলুকের সাংসদকে। যদিও, এভাবে না জানিয়ে সভাপতি পদ থেকে অপসারণ প্রসঙ্গে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি শুভেন্দু অধিকারীর এই সাংসদ ভাই।