চরম ভুল করছে! এবার তৃণমূলের বিধায়কের নিশানায় মমতা ব্যানার্জী

0
114

ঠিক যেন বিরোধী কোনও নেতার কথা! দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসু, সুজন চক্রবর্তীরা যেমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলাতন্ত্র নির্ভরতা নিয়ে প্রায়ই আক্রমণ শানান তার চেয়েও চড়া সুরে দলনেত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণ করলেন ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল করিম চৌধুরী।

রায়গঞ্জে ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচিতে আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, “বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক মিটিং করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের দেওয়া তথ্য দেখে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে চরম ভুল করছেন। চলতি মাসের ৩ তারিখ কালিয়াগঞ্জ কলেজ মাঠে মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের একটি মিটিং করতে আসেন। সেখানে তিনি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। যেটা সম্পূর্ণ ভুল। মুখ্যমন্ত্রীকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার সম্পূর্ণ ভুল বুঝিয়েছেন।” এখানেই থামেননি ইসলামপুরের বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীর কী উচিত ছিল তাও বলেন তিনি। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল ওই মিটিংয়ে উপস্থিত দলের বিধায়ক ও নেতৃত্বের থেকে সঠিক তথ্যটা জেনে নেওয়া। তাঁরাই মুখ্যমন্ত্রীকে বাস্তব পরিস্থিতিটা জানাতে পারতেন।”

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানহাইয়ালাল অগরওয়াল বলেন, “বিধায়কদের থেকে শুনে মুখ্যমন্ত্রীকে কোনও আধিকারিককে ক্লিনচীট দিতে হবে এটা আমি মনে করি না। তবে এদিন বিধায়ক যা বলেছেন, সেটা আমি দলের উচ্চতর নেতৃত্বকে জানাব।”

উত্তর দিনাজপুরের বর্তমান জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে সম্পূর্ণ অপদার্থ বলে তোপ দাগেন এই বিধায়ক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনায় অবতীর্ণ হন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক। তিনি বলেন, “জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনকে দিন অবনতি হচ্ছে। উন্নয়নের কাজও হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী বিধায়কদের বলার সুযোগ না দেওয়ার পরেও আমি ওই মিটিংয়ে উঠে দাঁড়িয়ে কয়েকটি অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আমাকে সময় দেননি। আমাকে আসল পরিস্থিতি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর ফ্লাইট ধরার তাড়া আছে বলে আমাকে থামিয়ে দেন। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিচ্ছি, এরপর থেকে জেলার বিধায়ক ও নেতৃত্বের সাথে কথা না বলে এবং তাঁদের থেকে বাস্তব পরিস্থিতি না জেনে প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রশংসা করে দরাজ সার্টিফিকেট দেবেন না।”

তৃণমূলের কোনও বিধায়ক দলনেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন তীব্র সমালোচনা করছেন, সচরাচর দেখা যায় না। ফলে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত অনেক নেতাই হতবাক হয়ে যান করিম সাহেবের কথা শুনে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা কেমন তাও উদাহরণ দিয়ে বলেন ইসলামপুরের বিধায়ক। তাঁর কথায়, “গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ইসলামপুরের নয়াবস্তি এলাকায় একটি চা বাগান দখলকে কেন্দ্র করে একদল দুষ্কৃতী নিরীহ গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। স্থানীয় এক মহিলার মৃত্যু হয়। দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের জন্য আমি দাবি জানাই। ওই এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের জন্য আমি উত্তরবঙ্গের আইজি-কে আসতে অনুরোধ করি। তিনি পরদিন তদন্ত করতে আসেন। আমি জেলাশাসককেও ওইদিন মিটিংয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানাই। কিন্তু জেলাশাসক তো ওই মিটিংয়ে আসেনইনি। উল্টে আমাকে বলেন, এটা নাকি আমাদের দলের ভিতরকার সমস্যা। আমাদেরই মিটিয়ে নিতে। একটা জেলাশাসক এই ধরনের মন্তব্য কী করে করতে পারেন?” তাঁর বক্তব্য, জেলাশাসক না আসার জন্য ওই মিটিং না করেই আইজি-কে ফিরে যেতে হয়।

গোটা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অসহায়তার কথাও বলেন করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমার সমস্যা আমি শাসকদলের একজন বিধায়ক। প্রশাসনের এত অন্যায় দেখেও আমি আন্দোলন করতে পারছি না, রাস্তা অবরোধ করতে পারছি না, থানা ও প্রশাসনের দফতর ঘেরাও করতে পারছি না। কিন্তু আমি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। তাঁদের প্রতি আমি ক্রমাগত অন্যায় করতে পারি না। সেই কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি গোটা বিষয়টি বিধানসভায় তোলার পাশাপাশি এই ব্যাপারে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করব।”