বড়সড় দুর্নীতি করে বিপাকে তৃণমূলের প্রধান, ধরা পড়ল হাতেনাতে

আমফানে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির দাদপুরের (Dadpur of Hooghly)। অভিযুক্ত তৃণমূল সদস্যের নাম রূপম ভগত।

জানা গিয়েছে, দাদপুর পঞ্চায়েতের হাঁড়াল গ্রামের সদস্য রূপম ভগত তাঁর বাড়ির দুজনের নাম আর তাঁর দুই বিশ্বস্ত প্রতিবেশীর নাম দিয়ে মোট চারটি বাড়ির ছবি দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। শুধু তিনি একা নন, বাড়ির ভুয়ো ছবি দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন ২০ জনের নাম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বিজেপি নেতা স্বপন পাল বলেন, ‘‘গোটা রাজ্যেই এভাবে সরকারি টাকা নয়ছয় হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। আমফানে কারা ক্ষতিগ্রস্ত তাঁদের নামের তালিকা তৈরির ভার ব্লক থেকে দেওয়া হয় পঞ্চায়েতকে। তাতেই শুরু হয় লাগামছাড়া দুর্নীতি। সবাই নিজের লোককে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। অথচ আসল যাঁদের দরকার তাঁদের দেখার কেউ নেই।’’

দাদপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য রূপম ভগতের দোতলা বাড়ির কোনও ক্ষতি হয়নি ঘূর্ণিঝড়ে। ভুয়ো ছবি দেখিয়ে তিনি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। আর সেই খবর জানাজানি হতেই সরব হয়েছে বিজেপি। প্রথমে রূপম ভগত জানান, গ্রামের একটি মেধাবী ছাত্র দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার।

কোনও উপায় না দেখেই এভাবে টাকা নিয়েছেন। তবে পরে চাপের মুখে পড়ে  বিডিওর কাছে টাকা ফেরত দিতে চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। পোলবা দাদপুরের বিডিও সন্তু দাস বলেন, ‘‘এই বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা পুরো বিষয়টাই দেখছি।’’

এত কিছুর পরেও হেলদোল নেই  রুপমবাবুর। বরং জোর গলাতেই তিনি দাবি করছেন দুর্গাপুর রোডে দূর্ঘটনায় আহত গ্রামের এক মেধাবী ছেলের চিকিৎসার জন্যই এভাবে টাকা নিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতেও কাউকে বাঁচাতে প্রয়োজনে এমন অসৎ পথ আবারও নেবেন বলে জানান। তবে বিষয়টি জানাজানি হতেই বিরোধীদের চাপে এখন ওই টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়ার জন্য পোলবার বিডিওর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন ওই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তিনি দাবি করেছেন সরকারি নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির সময় তাড়াহুড়ো ছিল। সেই সময় সবার আড়ালে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই সদস্য। যদি আরও কেউ এইভাবে টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন, তবে তারা যাতে টাকা ফেরত দেয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও।