চুরির পর দালালি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়ল তৃণমূলের কর্মী

ট্রেনের টিকিটের দালালি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল এক তৃণমূল (All India Trinamool Congress) কর্মী। অভিযোগ, বেলুড় ধর্মতলা রোডে ‘কাফে ইন্টারনেট’ নামের সাইবার কাফে খুলে চরম দুঃসময়ে টিকিটের দালালি করছিল শুভজিত্‍ ঘোষ। বালি আরপিএফ পোস্ট, আইআরসিটিসি যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু কারেন্ট টিকিট-সহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ল্যাপটপ-সহ ব্যবহৃত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রেল জানিয়েছে, ধৃত যুবকের ই-টিকিট বিক্রির বৈধ লাইসেন্স নেই।

নিজস্ব পাসওয়ার্ড দিয়ে টিকিট তুলে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছিল ধৃত যুবক। করোনা পরিস্থিতিতে রেল যে বিশেষ ট্রেনগুলি চালাচ্ছে তার টিকিট নিজস্ব পাসওয়ার্ড দিয়ে তুলে নিচ্ছে দালালরা। আরপিএফ এ নিয়ে অভিযান শুরু করেছে। শুভজিতের দাদা বালি তৃণমূল যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন সম্পাদক, বাবা ছিলেন কংগ্রেস নেতা। করোনা আবহে এভাবে টিকিটের কালোবাজারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও এই কাজের নিন্দা করেছেন। শুক্রবার রিষরা থেকে আরও একজনকে একই অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শামীম আহমেদ নামের ওই দালালের কাছ থেকে ৪১,৭০০ টাকার টিকিট পাওয়া গিয়েছে। দিন কয়েকের মধ্যে আজিমগঞ্জ, উত্তরপাড়া, ডানকুনি, রিষরা, বেলুড়ের থেকে এগারো জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে টিকিট দালালির অপরাধে।

এদিকে আরপিএফ কর্মীরা যখন করোনা আবহে প্রাণ বিপন্ন করে কাজ করছেন, তখন আচমকা অনেকের বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পূর্ব রেলের আইজি। গত বছর দীর্ঘদিন সিটিতে থাকা আরপিএফ কর্মী ও অফিসারদের বদলি করা হয় বিভিন্ন ডিভিশনে। কিন্তু সন্তানদের পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অসুবিধার জন্য ১১৩ জনের বদলি রদ করা হয় এক বছরের জন্য। করোনা পরিস্থিতিতে কাউন্সিলের একাধিক পরীক্ষা হয়নি। ফলে সমস্যা রয়েই গিয়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে তাঁদের বদলির নির্দেশ দেওয়ায় চরম বিপদের মধ্যে পড়েছেন অনেকেই। এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য আরপিএফ ডিজিকে আবেদন জানানো হয়েছে।