করোনা রুখতে এক ছিপি গো মূত্র খেয়ে হাসপাতাল তৃণমূল কর্মী!

0
68

করোনা রুখতে এক ছিপি গোমূত্র খেয়েছিলেন। তারপরেই নাকি শরীর অস্থির করতে শুরু করে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ব্যক্তিকে ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

ঝাড়গ্রাম পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামদা এলাকার বাসিন্দা শিবু গড়াই। বছর ৪২ এর এই যুবক পেশায় কাপড়ের  ব্যবসায়ী। এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত তিনি। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিন ১৫ আগে বন্ধুদের সঙ্গে মায়াপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন শিবু। দু’দিন সেখানে ছিলেন। ফেরার সময় দেড়শো টাকা দিয়ে কিনে আনেন ৪০০ মিলিলিটারের গোমূত্রের শিশি। বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলেন তা। করোনা আশঙ্কায় শিবুবাবু মঙ্গলবার রাতে সেই শিশি খুলেই এক ছিপি গলায় ঢালেন। তারপরেই নাকি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন তিনি।

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে বুধবার তিনি বলেন, “টিভিতে খবরে দেখছিলাম সব জায়গায় বিজেপি নেতারা গোমূত্র খাওয়াচ্ছে। গোমূত্র খেলে আর করোনা হয় না। আমি আগেই গোমূত্রের শিশি কিনে এনেছিলাম। এই রাজ্যেও একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, টিভিতে সেই শুনে ভয়ে ওই শিশি খুলে এক ছিপি খাই। সঙ্গে সঙ্গে গলা বুক জ্বালা করতে থাকে। বুকে ব্যথা করতে থাকে। ঘামতে থাকি। মনে হচ্ছিল মরে যাব। সঙ্গে সঙ্গে সবাই মিলে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”

ঝাড়গ্রামের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রকাশ মৃধা বলেন, “যে কোনও প্রাণীদেহের বর্জ্য হল মূত্র। তাই তা যে পরিশ্রুত  নয়, তা তো বলাইবাহুল্য। মানুষের রোগ হলে আমরা মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করি। যে কোনও প্রাণীর ক্ষেত্রেই মূত্রে অনেক কিছুর মাত্রা কম বেশি থাকে। ইনফেকশন থাকে। এক্ষেত্রেও তেমনই কিছু ছিল। তার থেকেই উনার শরীরে রিঅ্যাকশন হয়েছে। কোনও অবৈজ্ঞানিক কিছু কখনও শরীর নিতে পারে না এটা সবাইকে বুঝতে হবে।”

বাড়িতে শিবু গড়াইয়ের স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁরাও চিন্তিত হয়ে পড়েন। করোনা রুখতে গিয়ে যে এমন কাণ্ড হবে ভাবতে পারেননি তাঁরা। ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসার পর এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন। তবে এখনও তাঁকে হাসপাতালেই ভর্তি রাখা হয়েছে। আর সেখানে বসেই গোমূত্র পানের জন্য অনুশোচনায় দগ্ধ হচ্ছেন জামদার শিবু গড়াই।