বাংলার গর্ব মমতা কর্মসূচির প্রথম দিনেই বাঁশ নিয়ে মারপিট তৃণমূল সমর্থকদের!

0
176

‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচির শুরুতেই ধাক্কা মালদায়। চাঁচল ২ নম্বর ব্লকের মালতিপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ভন্ডুল হয়ে গেল কর্মিসভা। হাতাহাতি তো হয়ই, বাঁশ নিয়ে এক গোষ্ঠীর লোক অপর গোষ্ঠীর উপরে চড়াও হয়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই কদিন আগে নেতাজি ইনডোরর কর্মিসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কেউ লবি করবেন না। দল করুন। উষ্মা প্রকাশ করে দিদি এও বলেছিলেন, কয়েকটা জেলা আছে সেখানে শুধু লবিটাই হয়!

দু’দিন আগে মালদহ সফর থেকে ফিরেছেন তৃণমূলনেত্রী। আর এর মধ্যেই দাঁত-নখ বেরিয়ে পড়ল তৃণমূলের। ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচি নিয়ে তুমুল গণ্ডগোল হল চাঁচলে। তৃণমূলের একগোষ্ঠী বাঁশ দিয়ে পেটাল আরএক গোষ্ঠীকে। ঘটনায় জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এদিন ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচির সূচনা ছিল। সেই মতো চাঁচল-২ ব্লকের মালতীপুরেও চলছিল এই কর্মসূচি। তার মধ্যেই লণ্ডভণ্ড পরিস্থিতি তৈরি হয় সেখানে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক রহিম বক্সী তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তিনিই হয়ে যান এই এলাকার নেতা। পুরনো তৃণমূলের নেতারা তা মানতে পারেননি। অভিযোগ, এদিন রহিমেরে লোকজন সভা করছিল। ব্লকের কার্যকরী সভাপতিকে খবর দেওয়া হয়নি অভিযোগ তুলে বাঁশ হাতে সেখানে ঢুকে পড়ে তাঁর দলবল। এরপর চলে বেপরোয়া মারামারি।

জেলা তৃণমূলের কোনও নেতা এ নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে অনেকের বক্তব্য, এটা শুধু ব্লক স্তরের কোন্দল নয়। এটা জেলাস্তরের গণ্ডগোল। জানা যাচ্ছে, এই রহিম বক্সী বর্তমান জেলা সভাপতি মৌসম বেনজির নুরের লোক। আর যাঁকে ডাকা হয়নি বলে বাঁশ নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ, সেই ব্লক সভাপতি আবার প্রাক্তন জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের অনুগামী।

গোটা ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, “লোকসভা ভোটে মালদহের অর্ধেক অংশে তৃণমূল সাফ হয়ে গেছে। বাকিটার জন্য আমাদের কষ্ট করতে হবে না। ওরা নিজেরাই মারামারি করে পার্টিটাকে লাটে তুলে দেবে।”

অতীতেও গোষ্ঠী কোন্দলে বিদীর্ণ ছিল মালদহের তৃণমূল। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী আর সাবিত্রী মিত্রর কোন্দল বাংলার রাজনীতিতে সর্বজনবিদিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণেন্দু-সাবিত্রীরা তৃণমূলের সামনের সারি থেকে সরে গেলেও, কোন্দল যেন আঠার মতো লেগে রয়েছে জেলা তৃণমূলে!