মদের ঠেকে গিয়ে মার খেলেন তৃণমূল কাউন্সিলর আর ওনার ছেলে

কলকাতাঃ মদের ঠেকের গন্ডগোল থামাতে গিয়ে আক্রান্ত স্বয়ং কাউন্সিলর ও তার ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে বেআইনি মদের ঠেকের ঝামেলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দক্ষিনেশ্বর লাগোয়া বরানগর আলমবাজার ঘিরিঞ্চি কুঠি অঞ্চল। ঘটনায় আক্রান্ত কামারহাটি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শঙ্করী ভৌমিক ও তার ছেলে অরিন্দম ভৌমিক। অরিন্দম গুরুতর জখম হয়ে কামারহাটি সাগর দত্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই যুবক ওই সময় বাবলুর মদের ঠেক মদ কিনতে গেলে তাদের মদ বিক্রি করতে রাজি ছিল না দোকানদার। এরপরই দোকান মালিক ও ঠেকে বসে থাকা অন্যান্য যুবকদের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায় দুই যুবকের। তখনকার মত ওই দুই যুবক সেখান থেকে চলে যায়।

কিছুক্ষন বাদে ওই দুই যুবক দলবল নিয়ে অতর্কিতে বাবলুর মদের ঠেকে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। চলে একে অপরের উদ্দেশ্য বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে হামলা। এমনকি দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ব্যাপক ইট বৃষ্টিও। কার্যত রনক্ষেত্রের চেহারা নেয় দক্ষিনেশ্বর লাগোয়া ঘিরিঞ্চি কুঠি এলাকা। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে কামারহাটি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রেল কলোনি বস্তি এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ,সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকার তিন থেকে চারটি দোকানে ভাঙচুর করা হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বরানগর ও বেলঘড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি শুরু করে দুষ্কৃতীরা। ইটের ঘায়ে ছয় জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হামলাকারীদের উপর মৃদু লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। এদিকে আহত কামারহাটি পুরসভার কাউন্সিলর শঙ্করী ভৌমিকের অভিযোগ,যেহেতু গন্ডগোলের জায়গাটি তার ওয়ার্ড লাগোয়া, তাই তিনি ওই এলাকার বাসিন্দাদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছতেই মদের ঠেকের মালিক বাবলু ও তাঁর দলবল আমাকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মারধর করে।

শঙ্করী দেবীর আরও অভিযোগ,ছুটির দিন হওয়ায় তার ছেলে অরিন্দম ওরফে আপ্পা দক্ষিনেশ্বর ক্লাবে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। সেও খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে ওকে ওরা লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। অভিযোগ,অরিন্দমের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর জখম অরিন্দম কামারহাটির সাগরদত্ত হাসপাতালে ভর্তি। কামারহাটির কাউন্সিলর তিনি কি কারনে বরানগর পুরসভা অঞ্চলে গন্ডগোল থামাতে গেলেন।

 

এর উত্তরে শঙ্করী দেবী জানান, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের অনুরোধ উপেক্ষা করতে না পেরেই সেখানে গিয়েছিলাম। কাউন্সিলর জানান,বেলঘড়িয়া থানায় আমার ও আমার ছেলের ওপর দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

Related Articles