টোল প্লাজার উদ্বোধনে গিয়েও শান্তি নেই! মানুষের তুমুল বিক্ষোভের মুখে তৃণমূলের মন্ত্রী

টোল প্লাজার উদ্বোধনে এসে বিক্ষোভের মুখে পরলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটে তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের চিলাখানা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোগারকুঠি এলাকায়। অভিযোগ টোল প্লাজায় কর্মী নিয়োগে স্বজনপোষণ করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে এদিন ৩১ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর তরফে আগামীকাল তৃণমূল কার্যালয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে শান্ত হয় এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪-২০১৫ সালে স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি নিয়ে টোল প্লাজা তৈরি হয়। প্রথম থেকেই জমি দাতাদের স্থানীয় টোল প্লাজায় কাজ দেওয়ার কথা ছিল। সেই কথা রাখেনি কর্তৃপক্ষ। এদিন টোল প্লাজার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি এলাকায় পৌঁছানোর আগেই জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তুফানগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কথা চলাকালীন সেখানে উপস্থিত হন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। মন্ত্রীর কনভয়ের সামনে চলে আসেন বিক্ষাভকারীরা। পুলিশি হস্তক্ষেপে তিনি অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছান। বিক্ষোভকারীরাও সেখানে আসেন। মন্ত্রীর সামনেই চলতে থাকে বিক্ষোভ। কোনওভাবে টোল প্লাজার উদ্বোধন করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ইছব হোসেন, অনিতা সরকার, পবিত্র দাস বলেন, ‘জমিদাতাদের বঞ্চিত করে টোল প্লাজায় কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। কর্মী নিয়োগে স্বজনপোষণ হয়েছে। এই কারণেই আমরা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছি। যতদিন এই সমস্যা সমাধান না হবে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে। মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন আগামীকাল সকালে তৃণমূল কার্যালয়ে বসে সমস্যার সমাধান করা হবে। সমস্যা সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।’

এই বিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, টোল প্লাজায় যে নিয়োগ হয়েছে তাতে কোনও স্বজনপোষণ হয়নি। নিয়ম মেনেই নিয়োগ হয়েছে। যা সমস্যা রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে। টোল প্লাজার বরাত প্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার এগজিকিউটিভ জয়ন্ত হালদার বলেন, ‘আমরা সরাসরি কোনও কর্মী নিয়োগ করিনি। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের যে নাম দিয়েছে তাদেরই নিয়োগ করা হয়েছে।’