কাটমানি না পেয়ে স্কুলের শৌচাগার নির্মাণ বন্ধ করল তৃণমূল নেতা! অভিযোগ পেয়ে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ

সরকারি খরচে এলাকায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য শৌচাগার নির্মাণ হচ্ছে। নির্মাণকাজও অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু দাবিমতো তোলা না পেয়ে ‘হামলা’ চালিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে শাসকদলের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই ঘটনার পরে স্থানীয় তৃণমূলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনা যাতে প্রকাশ্যে না আসে তার জন্য তৃণমূল নেতাদের পাশাপাশি পুলিশও মুখে কুলুপ এঁটেছে। উভয়পক্ষই সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করেছে।

কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দ্বারিকামারী আদর্শ আপার প্রাইমারি স্কুলে সরকারি খরচে ওই শৌচাগার নির্মাণের কাজ কিছুদিন আগে শুরু হয়েছিল। প্রথম থেকেই শাসকদলের একটা মহল থেকে নানা কারণে ওই কাজে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, শৌচালয়ের কাজ শুরু হলেও শাসকদলের একাংশকে যে ‘সন্তুষ্ট’ করা হয়নি! তার জন্য তো  ‘খেসারত’ দিতেই হবে! মাঝপথে এভাবে শৌচালয় নির্মাণের কাজ থমকে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন ওই স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক সকলেই। কারণ, শৌচালয়ের অভাবে সবচেয়ে ভুক্তভোগী তারাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ আগস্ট,মঙ্গলবার স্কুল চত্বরে গোলমাল চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ওইদিন স্কুলে হাজির হয়ে শৌচালয় নির্মাণের কাজে ধৃত তৃণমূল নেতা বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ও এক সরকারি কর্মীকে ধাক্কা মারার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ব্যাপারে তৃণমূলের ওই নেতা সহ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে গণ্ডগোলের পরদিন বুধবার মেখলিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই নেতার নাম কমল রায়। তিনি তৃণমূলের এসসি,এসটি এবং ওবিসি সেলের মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি পদে আসীন ছিলেন। তাঁর বাড়ি জামালদহের খাসবস দ্বারিকামারী এলাকায়। মেখলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার কমলকে মেখলিগঞ্জ মহকুমা আদালতে তোলা হলে সংশ্লিষ্ট বিচারক তাঁকে ৯ দিনের জেল হেপাজত দিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ফের অভিযুক্তকে কোর্টে তোলা হবে।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা স্কুল চত্বরে ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য কোনও শৌচালয় নেই। শিক্ষকদেরও শৌচালয়ের বন্দোবস্ত নেই। ফলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নিকটবর্তী কোনও বাঁশঝাড়ের আড়ালে কিংবা খোলা মাঠেই ছুটতে হয় ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক সকলকেই। বহু প্রচেষ্টার পর সেই স্কুল চত্বরে সরকারি টাকা খরচ করে শুরু হয়েছে ওই শৌচালয় নির্মাণের কাজ। পুলিশের পাশাপাশি মেখলিগঞ্জ  ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়ার কাছেও লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

অভিযোগ উঠেছে, দাবি মতো তোলা না পেয়ে লোকজন নিয়ে সরকারি কাজে বাধার সৃষ্টি করেছেন কমল। এই ঘটনায় মূল অভিযোগের তীর তাঁর দিকে। কমলের বিরুদ্ধে পুরানো একাধিক জামিন অযোগ্য মামলাও রয়েছে। নতুন করে এই অভিযোগ দায়ের হলেও পুরোনো কোন মামলার কারণেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

তৃণমূলের মেখলিগঞ্জ ব্লক স্তরের নেতা উদয় রায়ও ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেন। তিনি শুধু দাবি করেন, ‘ওটা ব্যক্তিগত বিবাদ। দল জড়িত নয়।’ তবে তার স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেননি। এ ব্যাপারে দলের অন্য নেতারাও কিছু বলতে চাননি। তবে মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতিষ রায় ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, ‘পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। এর বেশি বলা যাবে না।’