বিশ্বনাথ ধামে খননের সময় মিলল ৪০০ বছর পুরনো মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, পাওয়া গেলো একটি সুড়ঙ্গও

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (narendra modi) ড্রিম প্রোজেক্ট কাশী বিশ্বনাথ ( Kashi Vishwanath) ধামের আধুনিকায়ন চলছে জোর কদমে। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগের ঘোষনাও হয়েছে। এই কাজ চলাকালীনই মন্দিরের পশ্চিমদিকে খননকার্যে আবিস্কার হল প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে খবর দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পশ্চিম দিকে খননকার্য চালাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। সেই সময়েই এই মন্দিরের সন্ধান মেলে। দ্রুত কাজ বন্ধ রেখে খবর দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট মহলকে। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মন্দির চত্বরে। জানা যাচ্ছে, পরীক্ষা করে দেখা হবে এই মন্দিরের প্রাচীনত্ব ও অন্যান্য তথ্য।

প্রসঙ্গত, কাশী বিশ্বনাথ ধাম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প। ঢেলে সাজানো হবে এই তীর্থস্থানকে৷ ভক্তরা গঙ্গা স্নানের পর সরাসরি বাবা বিশ্বনাথের দরবারে প্রবেশ করবেন। তীর্থযাত্রীদের জন্য ভোগশালা, যাত্রী সুবিধা কেন্দ্র, হস্তশিল্প ও স্যুভেনির শ্যাপ, বহুমুখী হল, গ্যালারী, সিটি মিউজিয়াম, বৈদিক কেন্দ্র, খাবারের দোকান ছাড়াও ধর্মীয় বইয়ের স্টল তৈরি করা হচ্ছে। নির্মাণ করা হবে একটি গ্যালারিও। যেখানে কাশীর ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতা প্রদর্শনী হবে। সব মিলিয়ে নতুন করে সেজে উঠবে কাশী।

স্কন্দ পুরাণের কাশীখণ্ডে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়। একাদশ শতাব্দীতে হরি চন্দ্র মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। ১১৯৪ সালে মহম্মদ ঘোরি বারাণসীর অন্যান্য মন্দিরগুলির সঙ্গে এই মন্দিরটিও ধ্বংস করে দেন। এরপরেই আবার মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়।

এরপর কুতুবুদ্দিন আইবক মন্দিরটি ধ্বংস করেন।আইবকের মৃত্যুর পর মন্দিরটি আবার নির্মিত হয়। ১৩৫১ সালে ফিরোজ শাহ তুঘলক মন্দিরটি আবার ধ্বংস করেন। ১৫৮৫ সালে আকবরের রাজস্বমন্ত্রী টোডরমল আবার মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন।

এরপর ১৬৬৯ সালে ঔরঙ্গজেব পুনরায় মন্দিরটি ধ্বংস করে জ্ঞানবাপী মসজিদ তৈরি করান। এই মসজিদটি আজও মন্দিরের পাশে অবস্থিত।মসজিদের পিছনে পুরনো মন্দিরের কিছু ধ্বংসাবশেষ আজও দেখা যায়।

বর্তমান মন্দিরটি ১৭৮০ সালে ইন্দোরের মহারানি অহিল্যা বাই হোলকর তৈরি করে দিয়েছিলেন।১৮৩৫ সালে পাঞ্জাবের শিখ সম্রাট রঞ্জিত সিংহ মন্দিরের চূড়াটি ১০০০ কিলোগ্রাম সোনা দিয়ে মুড়ে দেন।