মমতা আর ব্রাত্য নন। মমতার হাত ধরে চলতে রাজি সিপিএম। এ কথা স্পষ্ট করেই বলে দিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তিনি খোলাখুলিই বলেন, জাতীয় স্তরে সিএএ-এনআরসি ইস্যুতে তৃণমূলের সঙ্গে এক মঞ্চে বসতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে তার আগে মমতাকে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, এনআরসি-সিএএ ইস্যুতে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বিরোধীরা। দেশের স্বার্থে এক হয়ে চলতে তাঁদের কোন ছুঁৎমার্গ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এনআরসি-সিএএ-এনপিআর নিয়ে আন্দোলন করে চলেছেন। তাই তাঁর সঙ্গে এই ইস্যুতে আন্দোলন করা যায়।

তিনি বলেন, মমতার সঙ্গে আন্দোলনে বাধা শুধু একটা জায়গাতেই। মমতার ভূমিকা সর্বত্র স্পষ্ট নয়। তাই সিএএ আর এনআরসি ইস্যুতে সবার আগে তাঁকে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এই যে বিরোধীরা সবাই বৈঠকে বসেছিল আন্দালোর রূপরেখা তৈরি করতে। তিনি গেলেন না। তিনি মোদীজির সঙ্গে বৈঠক করলেন কলকাতায়। তাতেই ধন্দ তৈরি হচ্ছে।ইয়েচুরি বলেন, রাজ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ছুঁৎমার্গ থাকতেই পারে। কারণ রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি সংঘাত জারি রয়েছে। তবে জাতীয় স্তরে একজোট হতে তাদের আপত্তি নেই। এই য়ে মমতা মোদীর সঙ্গে বৈঠক করে ফের এনআরসি-সিএএ বিরোধী মঞ্চে চলে গেলেন, তৃণমূল নেতারাও বুঝতে পারছেন না, তিনি কী চান। একমাত্র মমতাই জানেন।

তাই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক মনে করেন, মমতার সঙ্গে পথ চলার আগে, তাঁকে স্পষ্ট করতে হবে নিজের অবস্থান। দু-নৌকায় পা দিয়ে চললে তো তাঁকে নিয়ে চলা সমস্যা হবেই। বিরোধী ঐক্যই দানা বাঁধবে না। মোট কথা, এনআরসি-সিএএ বিরোধিতায় আন্দোলন তীব্র করতে সবার আগে প্রত্যেক বিরোধী দলকে একমত হতে হবে।