বড় সমীক্ষাঃ একটি সংগঠনের বাড়বাড়ন্তে পুরভোটে বিপুল ভাবে হিন্দিভাষীদের সমর্থন হারাচ্ছে তৃণমূল!

0
175

রাজ্যে পুরভোট আসন্ন। আর পুরভোটের কথা মাথায় রেখে কোমর বেঁধে নেমেছে সমস্ত রাজনৈতিক দলই। একদিকে তৃণমূল যেমন তাঁদের ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। আরেকদিকে বিজেপি ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পুরভোটে তৃণমূলকে হারানর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ১৮ টি আসন দখল করেছিল বিজেপি। এরপরই মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য স্ট্র্যাটেজিক প্রশান্ত কিশোরকে ভাড়া করেছে রাজ্যে ভালো ফল করার জন্য।

বিজেপি এরাজ্যের পুরভোটে তৃণমূলকে হারাতে কোমর বেঁধে রাস্তায় নেমে পড়েছে। আর সেটারই ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি যেমন সব মহলেই দাগ কাটার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তেমনই তৃণমূল সংখ্যালঘুদের ভোট পাওয়ার জন্য মরিয়া। কিন্তু এবার পুরভোটে ফ্যাক্টর বাঙালি এবং অ-বাঙালি ভোট। আর সেখানেই পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল।

রাজ্যে একটি সংগঠনের বাড়বাড়ন্তে তঠস্থ অ-বাঙালিরা। চারিদিকে তাঁদের গুটখা খোর আর বহিরাগত বলে তকমা দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে একটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের কথা, এখন হয়ত তাঁদের এরাজ্য থেকে তাড়িয়েই দেওয়া হবে। নাহলে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে তাঁদের হেনস্থা করা হবে।

কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুরের হিন্দিভাষীদের বক্তব্য হল, প্রশাসন সবকিছু দেখেও নির্বাক। কারণ ওই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে শাসক দলের ছত্র ছায়ায় কাজ করে আসছে। তাঁদের বক্তব্য, দোষ করলে শাস্তি দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসন আছে, কিন্তু ওঁরা কারা? ওঁরা কি করে আইন হাতে তুলে নিয়ে ট্রেনে, কোন মহল্লায় গিয়ে ভিডিও করে শাসানি দিচ্ছে?

তাঁরা জানান, গুটকা খোর তকমাটা কেন? যারা গুটখা খায় তাঁদের দেখতে পারেনে ওই সংগঠন। কিন্তু তাঁরা কোনদিনও রাজ্যে গুটখা বন্ধের জন্য আন্দোলনে নামেনি। এমনকি তাঁরা সরকারের কাছে গিয়েও গুটখা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়নি। পাশাপাশি তাঁরা আরও বলেন, শুধু কি অ-বাঙালিরাই গুটখা খায়? কত বাঙালি দেখেবেন যারা দিনে প্যাকেটের পর প্যাকেট গুটখা খেয়ে যাচ্ছে। তাহলে ওই সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, তাঁরাও বহিরাগত?

অ-বাঙালিদের মনে এই আক্রোশ দেশে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, আসন্ন পুরভোটে এবার অ-বাঙালি ভোটের সিংহ ভাগই বিরোধী দলের খাতায় যেতে চলেছে। আরেকদিকে বাঙালি ভোটও যে শাসক দল তৃণমূল একাই পাচ্ছে না সেটাও স্পষ্ট। অ-বাঙালি প্রধান পুরসভায় এবার বড়সড় বিপাকে তৃণমূল।