কথা দিয়েছিলেন ফ্রিতে রেশন দেওয়ার, উল্টে চালের পরিমাণ কমিয়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) যেদিন শেষ বারের মতো জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে আসেন। সেদিন তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, এবছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের প্রতিটি রেশন (Ration) দোকান থেকে বিনামূল্যে চাল, ডাল, গম, আটা দেওয়া হবে। করোনার কারণে মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদিন আর সেই সময় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী (Mamata Banerjee)। সাংবাদিকেরা ওনাকে নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি বলেন, আমি আপনাদের সাথে মিটিং করছি, উনি কি ঘোষণা করেছেন জানিনা।

সাংবাদিকরা যখন মমতা ব্যানার্জীকে বলেন, নরেন্দ্র মোদী এই বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের প্রতিটি রেশন দোকানে চাল, ডাল, গম, ছোলা, আটা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তখন মমতা ব্যানার্জী একধাপ এগিয়ে বলেন, আমরা আগামী এক বছর পর্যন্ত রাজ্যবাসীকে বিনামূল্যে রেশন দেব। এমনকি উনি এও বলেন যে, কেন্দ্রের দেওয়া চাল ভালো না, আমাদের চাল অনেক ভালো খেতে, দেখতে ভালো। এমনকি পুষ্টিকরও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর এই ঘোষণার পর রাজ্যবাসীর মধ্যে খুশির হাওয়া বয়ে যায়।

এর ঠিক কিছুদিন পর ২১ এ জুলাই উপলক্ষে একটি ভার্চুয়াল সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সেই সভা থেকে কেন্দ্রের সমস্ত নীতির সমালোচনা করেন এবং কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। আর ২১ এ জুলাইয়ের সেই সভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস ২১ এর বিধানসভা ভোটের পর যদি রাজ্যে আবারও ক্ষমতায় আসে, তাহলে রাজ্যবাসীকে আজীবন বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে। মমতা ব্যানার্জীর এই ঘোষণা পর বিরোধীরা ওনাকে তুলোধোনা করতে ছাড়ে নি। কারণ তিনি ২০১১ এর ভোটের আগে বলেছিলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কলকারখানা খুলে দেবেন আর শিল্প ফিরিয়ে আনবেন। বিরোধীদের মতে এই প্রতিশ্রুতি পালন তো দূরের কথা, উল্টে রাজ্যে হাজার হাজার কল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে আর শিল্পপতিরা রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছেন।

এবার মমতা ব্যানার্জীর বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতির তথ্য শেয়ার করলেন বিজেপির সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার প্রেসিডেন্ট সৌমিত্র খাঁ। তিনি ট্যুইটারে একটি ছবি শেয়ার করে দেখিয়েছেন যে, রাজ্যে মে, জুন, জুলাই মাসে মাথা পিছু প্রতিমাসে ৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আগস্ট মাস ২০২০ থেকে জুন মাস ২০২১ পর্যন্ত কার্ড পিছু চালের পরিমাণ কমিয়ে পাঁচ কেজি থেকে এক কেজি করা হয়েছে। সৌমিত্র খাঁ, মমতা সরকারের এই নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্যুইটারে সরকারি তথ্য শেয়ার করেছেন।