তৃণমূলের প্রভাবশালীদের বাঁচানোর জন্য খুন করা হতে পারে রাজীব কুমারকে! চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন কংগ্রেস সভাপতি

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সভাপতি সৌমেন মিত্র আশঙ্কা জাহির করে বলেন, সারদা মামলায় জড়িত প্রভাবশালীদের বাঁচানোর জন্য কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ অফিসার রাজীব কুমারের হত্যা হতে পারে। ওনাকে খুন করা হলে উনি আর কারোর নাম সামনে আনতে পারবেন না। আপনাদের জানিয়ে রাখি, আগাম জামিনের জন্য আলিপুর আদালতে আবেদন করেছিলেন মমতা ঘনিষ্ঠ আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার। কিন্তু আদালত সেটিকে খারিজ করে দেয়।

কলকাতা হাইকোর্ট রাজীব কুমারের উপর থেকে রক্ষা কবচ তুলে নেওয়ার পর থেকেই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা ওনার। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ওনাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। এমনকি উত্তর প্রদেশেও ওনার খোঁজ চালানো হয়েছে। তাও ওনার কোন খোঁজ মেলেনি। রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সবথেকে বড় অভিযোগ হল, তিনি সারদা তদন্ত মামলার দ্বায়িত্বে থাকাকালীন প্রভাবশালীদের বাঁচানোর জন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ লোপাট করে দিয়েছেন।

কংগ্রেস সভাপতি সৌমেন মিত্র বলেন, এটা স্পষ্ট যে, রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হলেই অনেক প্রভাবশালীরা বিপদে পড়ে যাবে। সারদা চিটফান্ড মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক শীর্ষ নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই, অনেককে আবার গ্রেফতার করে জেলের ঘানিও টানিয়েছে। আর এই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজীব কুমারকে আইনের মারপ্যাচ থেকে বাঁচানোর জন্য সবরকম প্রচেষ্টা করেই চলেছে। এমনকি ওনাকে চুপ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার আশঙ্কা এই যে, ওনাকে খুনও করে দেওয়া হতে পারে।

সৌমেন মিত্র বলেন, রাজীব কুমার ২০১৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার দ্বারা বানানো সারদা চিটফান্ড মামলার তদন্তের জন্য গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর যখন এই মামলার দ্বায়িত্ব সিবিআই নিজের কাঁধে নেয়, তখন রাজীব কুমারের উপর কিছু প্রভাবশালী মানুষদের বাঁচানোর জন্য এই মামলার সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ নথী ভ্যানিশ করে দেন। তৃণমূল কংগ্রেস এই ব্যাপারে কোন মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে। সারদা চিটফান্ড দুর্নীতির মাধ্যমে গোটা রাজ্যে ২৫০০ কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে, আর এর প্রভাব পড়েছে সারদা চিটফান্ডে আমানতকারী নিরীহ গরিব মানুষদের উপর।

Related Articles