পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে যোগী আদিত্যনাথের জয়জয়কার, মাথায় হাত BJP বিরোধীদের

একদিকে করোনার দাপট অন্যদিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের দায়ভার। দুই চাপ সামাল দিতে নাজেহাল কেন্দ্র-রাজ্য। এমন পরিস্থিতিতে বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জনপ্রিয়তার পারদ চড়ছে। বিহারে ফিরতে চাওয়া শ্রমিকদের সাফ কথা, উত্তরপ্রদেশ সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের দেখভালের জন্য ভাল ব্যবস্থা করেছে সেই তুলনায় আমাদের রাজ্য বিহার কিছুই করছে না। যোগী আদিত্যনাথের এহেন জনপ্রিয়তা যে নীতীশ কুমারের ঘুম কাড়বে তা বলাই বাহুল্য।

উত্তরপ্রদেশে থেকে বহু পরিযায়ী শ্রমিক বিহারে ফিরছেন। আবার অন্যান্য জেলা থেকে নিজের রাজ্য বিহারে ফেরার সময় উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা পেড়িয়ে যাচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। রাস্তায় তাঁদের জন্য খাবার, জল এমনকী পরিবহণের ব্যবস্থা রেখেছে যোগী সরকার বলে খবর। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। থানা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সুব্যবস্থা করছে। গোপালগঞ্জে পৌঁছনো একদল পরিযায়ী শ্রমিকের কথায়, “উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি পুলিশ স্টেশনের কর্মীরা সহয়োগিতা করছিলমেন। গাড়ির ব্যবস্থা করে দিচ্ছিলেন। এমনকী আমাদের জন্য জল, বিস্কুটের ব্যবস্থা করছিলেন। কিন্তু বিহারে সেই তুলনায় কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি”।

একই সুর শোনা গেল বিহার-উত্তরপ্রদেশে সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা ১৫০ জন পরিযায়ী শ্রমিকের গলায়। বিহারের নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে তাঁদের ক্ষোভ, বিহার সরকার আমাদের ফেরার ব্যবস্থাটুকু করে দিচ্ছে না। বলা হচ্ছিল, নীতীশ কুমারের প্রশাসন ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে ১০০০ টাকা করে জমা দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সেই শ্রমিকদের কাছে কানাকড়িও পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ। এদিকে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন নীতীশ কুমার। পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে লকডাউনের নিয়ম ভাঙছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে যোগী প্রশাসনের এহেন জনপ্রিয়তায় সিদুঁরে মেঘ দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের কথায়, যোগী \আদিত্যনাথের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি বকলমে বিজেপির সমর্থন বৃদ্ধি। এমন পরিস্থিতি করোনা পরবতর্তী সময়ে বিহারে নির্বাচন হলে নীতীশ কুমার বিপাকে পড়তে পারেন। অতিরিক্ত আসন চেয়ে কোনঠাসা করা হতে পারে তাকে। যদিও শনিবার সকালের উত্তরপ্রদেশের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যোগী প্রশাসনের পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।